সোহাইল আহমেদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবপুর ঈদগাহ ময়দানে ঈদ-উল-ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় চরশিবপুরের ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আল্লামা হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন ফারুকী।
ঈদের জামাতের আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মাওলানা মহিউদ্দিন ফারুকী তিনি বলেন, “ঈদ-উল-ফিতর মুসলমানদের জন্য এক আনন্দের দিন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই দিন আসে আমাদের জীবনে খুশি আর সৌহার্দ্য নিয়ে। আমরা যেন এই ঈদের শিক্ষা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে পারি। পাশাপাশি আমাদের চারপাশের গরিব-দুঃখী মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি, সেটাই হবে আমাদের জন্য প্রকৃত ঈদের আনন্দ।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
বিশেষ করে ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণের ওপর চলমান ইসরাইলি হামলা আমাদের ব্যথিত করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং ফিলিস্তিনি মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য দোয়া করি, যাতে তারা দ্রুত শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পায়।”
এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মুসল্লিরা প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করেন। ঈদ জামাতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মহিউদ্দিন ফারুকী।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে স্থানীয় কবরস্থানে যান। সেখানে সম্মিলিত মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান আনসারী (ছগির)। তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয়জনরা যারা এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, তাদের জন্য আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের জান্নাত নসিব করেন। পাশাপাশি আমরা নিজেদের জন্যও প্রার্থনা করি, যাতে আমরাও ঈমানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারি।”
চরশিবপুর ঈদগাহ ময়দানে সোনারামপুর ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের মুসল্লিরা একত্রে নামাজ আদায় করেন। ঈদের জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। নামাজ শেষে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দৃশ্য ফুটে ওঠে, যখন মুসল্লিরা পরস্পরকে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
ঈদের জামাত শেষে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মেহেদী আল মাসুম বলেন, “আমরা প্রতি বছর দুইটি ঈদ একসঙ্গে পালন করি, যা আমাদের জন্য এক বিশেষ আনন্দের দিন। ঈদ যেমন একটি ধর্মীয় উৎসব, এটি আমাদের সামাজিক ঐক্য, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। এই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলেই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য সফল হবে।