……………………………………সোহাইল আহমেদ
কেউ চিত্রকর্ম করে আবার কেউ গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দশদোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে সেই ভাষার প্রকাশ ঘটেছে দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিতে।
দশদোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়ালে আজ গ্রাফিতি এঁকে সময়ের স্মরণীয় বিপ্লবের স্মৃতি তুলে ধরছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় পৌর শহরের দশদোনা উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে গ্রাফিতি তৈরি করা হচ্ছে। এসব গ্রাফিতিতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, স্বাধীনতা, শহীদ মুগ্ধ, আবু সাঈদসহ নানা চিত্র তুলে ধরতে কাজ চলছে।
দশদোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নাদিম জানান, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ছাত্র আন্দোলনের মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে ধরে রাখতে দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন করা হচ্ছে।
শিক্ষকরা বলছেন, দেশ বিনির্মাণে ছাত্র আন্দোলনের এসব স্মৃতি উজ্জীবিত করবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে, এটাই তাদের প্রত্যাশা। আগে দেয়ালে অনেক আজেবাজে কথা লেখা ছিল। সেগুলো পরিষ্কার করে ছাত্র আন্দোলনের ছবি আঁকা হচ্ছে। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে জানতে পারে তাদের পূর্বপ্রজন্মের অবদান।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার গ্রাফিতি শিল্প ও সংস্কৃতি মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক ফেরদৌস আরা বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালকে জুলাই (২০২৪) স্মৃতি, পাঠনোপযোগী ও নান্দনিক করে গড়ার জন্য সরকার এই গ্রাফিতি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, শিল্পবোধ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি হোক। তাই শিক্ষার্থীরাই রং-তুলি হাতে নিজ নিজ বিদ্যালয়ের দেয়ালে বিভিন্ন শিক্ষামূলক বার্তা ও জুলাই স্মৃতির চিত্র গ্রাফিতি আঁকছে। এতে করে বিদ্যালয়গুলো শুধু শিক্ষার স্থানই নয়, একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশ হিসেবেও গড়ে উঠছে।
এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মননশীল বিকাশের সুযোগ যেমন তৈরি হচ্ছে, তেমনি বিদ্যালয়ের পরিবেশও হয়ে উঠছে আরও প্রাণবন্ত, পরিচ্ছন্ন ও আনন্দদায়ক। সরকারের এই উদ্যোগ আগামী প্রজন্মের মধ্যে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে এবং বিদ্যালয় হবে সৃজনশীলতার উন্মেষস্থল।

