ফয়সল আহমেদ খান, বিশেষ প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে জেলা দাপিয়ে বেড়ানো নেতারা এবার ঈদ-উল-ফিতর পালন করছেন পলাতক অবস্থায়। পাঁচ আগষ্টে আওয়ামীলীগের পতনের পর থেকেই পলাতক অবস্থায় আছেন এসকল নেতারা।
আওয়ামী লীগের পুরোটা সময়জুড়ে ঈদের সময় আসলেই বাঞ্ছারামপুর পৌর শহর ও উপজেলা গুলোতে আওয়ামী লীগের নেতাদের ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে যেত শহর। বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার মার্কেট থেকে শুরু করে ঈদের জামাত পর্যন্ত সর্বত্র দাপট দেখা যেত এসকল নেতার।
বাঞ্ছারামপুর আওয়ামীলীগের পুরো সময়জুড়ে ঈদের জামাত নিয়ে নানান আয়োজন করতে দেখা যেত তৎকালীন এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যা. এবি তাজুল ইসলাম তার ভাগিনা জনি ও ভাতিজা তুষার চেয়ারম্যানকে। তবে,বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মেয়র ভিপি তোফাজ্জল, ছোট তাজ,গাজী ফয়জুর রহমান,সিদ্দিকুর রহমান মাষ্টার, রাশেদ চেয়ারম্যানদের খুশী করতে না পারলে নেতাকর্মীদের ঈদ করাটা দুরুহ হয়ে পড়তো।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসকল আয়োজন করা হলেও সেখানে নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ব্যাক্তিগত প্রচারণা করতেন ক্যা. তাজ ও ভাগিনা-ভাতিজারা।
তবে এবার ঈদ-উল ফিতরে ক্যা. তাজ হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা নিয়ে জেলে থাকার কারনে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রভাব নেই বাঞ্ছারামপুরে। বিদেশে পলাতক অবস্থায় এবছর ঈদ উদযাপন করছেন ভাতিজা তুষার চেয়ারম্যান ।
বাঞ্ছারামপুরের আরেক দোর্দণ্ড প্রভাবশালী নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাদিদ আল রহমান জনি এবছরের ঈদ কাটছে ঢাকায়।তিনি কিছু দিন আগে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। শতকোটি টাকার মালিক ভিপি তোফাজ্জল সহ জনি অতীতে বাঞ্ছারামপুরে ঈদের সময়ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের এলাকায় প্রবেশ করতে দিতেন না ।
ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরোয়া কর্মসূচিতেও হামলা চালাতো তাজ-জনি-তোফাজ্জলের পালিত সন্ত্রাসীরা। পলাতক অবস্থায় ঈদ উদযাপন করেছেন সোনারামপুর ইউনিয়নের ডন শাহিন চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীরাও।
এছাড়াও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের বহু নেতাই পলাতক রয়েছেন। অতীতে ঈদের সময় এসকল দাপুটে নেতাদের পদচারণায় থাকতো ঈদ পরিবেশ।
তবে,অভিযোগ রয়েছে, বহু আওয়ামী নেতাকর্মীরা কিছু উল্লেখ যোগ্য ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পোস্ট/ফয়সল/সোহাইল