২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের সম্মানে ইফতার বিতরণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
বুধবার (২৬ মার্চ) পবিত্র রমজানের পবিত্রতা ও মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।
কাজী সিরাজুল ইসলামের সঞ্চলনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন আকন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জুনায়েদ হাসান, প্রচার সম্পাদক রোকন উদ্দিন, পৌর শাখার আমির শাখাওয়াত হোসাইন, হাফেজ কাউসার আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি মাওলানা মোবারক হোসাইন আকন্দ বলেন, “শ্রমিকরাই একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি। তাদের পরিশ্রমের মাধ্যমেই জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছায়। ইসলামে শ্রমিকদের প্রতি দয়া ও ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে এখনো বহু শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।”
রোকন উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ রক্ত ঝরিয়েছে, দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও তারা ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না। শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের সঠিক মজুরি নিশ্চিত করা এবং কাজের নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।
ইসলাম শ্রমিকের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। কুরআন ও হাদিসে শ্রমিকদের প্রতি ন্যায্যতা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণ করে শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ করা গেলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের প্রতি সদাচরণ ও মানবিক আচরণ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
জামায়াত নেতারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। রমজান হলো সহমর্মিতা ও ত্যাগের মাস, তাই এই মাসে শ্রমজীবী মানুষের জন্য ইফতার বিতরণের মতো কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।
তারা আরও বলেন, সরকার ও সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে শ্রমিকদের যথাযথ অধিকার নিশ্চিত করা, তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে সমাজে বৈষম্য ও শোষণ বাড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পোস্ট/রোকন/সোহাইল